গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
চোর অপবাদ দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ মেহেদী সুলভের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে বিএনপির কর্মীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার নাঠৈ মোহাম্মাদিয়া জামে মসজিদের ভেতরে ও মসজিদ প্রাঙ্গনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিএনপি কর্মী সৈয়দ আব্দুল আলীম (৬২), তার স্ত্রী মিসেস লিয়া (৫১), ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র সৈয়দ তাওসীন ইসলাম (১৫)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মিসেস লিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী সৈয়দ সালাউদ্দিনের কাছ থেকে খরিদকৃত গাছ গত ১৫ অক্টোবর সকাল থেকে গাছের ক্রেতা শ্রমিক দিয়ে কাটতে থাকে। ওই গাছের মালিক দাবি করে বিকালে মেম্বার সৈয়দ মেহেদী সুলভ কাটা গাছের টুকরা নিতে বাঁধা দিলে শ্রমিকরা গাছ রেখে চলে যায়। সৈয়দ সুলভ সহ ৫ থেকে ৭ জনে শুক্রবার ভোররাতে ওই গাছের টুকরোর (গুড়ি) অধিকাংশ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনা আমি (লিয়া) ও আমার ছেলে তাওসীন দেখে ফেলি। গাছ চোর বলায় সুলভ আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালাগাল করেন।
এর জেরধরে সুলভের নেতৃত্বে ৩ থেকে ৪ জনে লাঠিসোঁট ও দেশীয় ধারাল অস্ত্র নিয়ে শুক্রবার বাদএশা (নামাজ শেষে) আমাদের বাড়ির পাশের মসজিদের ভেতর হামলা চালিয়ে মুসল্লী আমার স্বামীকে (আলীম) পিটিয়ে আ্হত করে। খবর পেয়ে স্বামীকে উদ্ধারের জন্য আমি (লিয়া) ও আমার ছেলে (তাওসীন) মসজিদ প্রাঙ্গনে ছুটে গেলে আমাদেরকেও কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আমাদের ৩ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভতি করেন।
এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও চাঁদশী ইউপির সদস্য সৈয়দ মেহেদী সুলভ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে চোর অপবাদের প্রতিবাদ করায় হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার ভাই সৈয়দ শান্তকে পিটিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষরা। আত্মরক্ষার জন্য যতটুকু করা প্রয়োজন, তাই করেছি। আ’লীগের কাউকে পাইলেই পুলিশে গ্রেফতার করে, তাই আমি আত্মগোপনে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার পৈতৃক জমির গাছ কাটতে আমি বাঁধা দিয়েছি। উক্ত কাটা গাছআমি নিতে দেইনি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক আমি সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌছানোর পূর্বেই একাধিক মামলার আসামি সৈয়দ মেহেদী সুলভ সহ হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

