আহমেদ সিফাত, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামের শতবর্ষী প্রবীণ ঈশাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন।
শরীরের ডান পাশ অচল, কথা বলতে অক্ষম-শুধু চোখের দৃষ্টিতে নিজের অসহায়তা প্রকাশ করতেন তিনি। পরিবারের সামর্থ্যও ছিল সীমিত।
এই মানবিক সংকটের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে সামনে এলে তা নজরে আসে উপজেলা প্রশাসনের। এরপরই প্রবীণ এই মানুষটির খোঁজখবর নিতে উদ্যোগ নেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইয়াসিন খন্দকার।
ইউএনও ইয়াসিন খন্দকার মাধবদী গ্রামে গিয়ে ঈশাদ মিয়ার চিকিৎসা, বসবাস ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে কথা বলেন পরিবারের সঙ্গে
পরে তার হাতে নানাবিধ সহায়তা তুলে দেন।
সহায়তার মধ্যে ছিল-নতুন ঘর নির্মাণের জন্য দুই বান টিন, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য নগদ ৬,০০০ টাকা, পরিবারের খাদ্য সংকট লাঘবে শুকনো খাবার এবং শীত থেকে রক্ষায় শীতবস্ত্র।
সহায়তা পেয়ে ঈশাদ মিয়ার স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা অসহায়। কেউ নাই। টিউনো সাব আফন কইরা আমাগো সাহায্য করছে। আল্লাহ ওনারে বাছাইয়া রাহুক।”
এসময় ইউএনও ইয়াসিন খন্দকার বলেন,
“সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি দেখে জানতে পারি। একজন মানুষ এমন কষ্টে পড়ে থাকবেন-এটা মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাজ শুধু নিয়ম মানানো নয়, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোও দায়িত্ব।”
ইউএনও’র এই দ্রুত মানবিক প্রতিক্রিয়ায় এলাকায় স্বস্তির সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, একটি প্রতিবেদন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে-আর ইউএনও মোঃ ইয়াসিন খন্দকার তার প্রমাণ দিলেন কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মামুন মিয়া, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

