Nabadhara
ঢাকারবিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয়পুরহাটে হানাদার মুক্ত দিবসে আজ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি 
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জয়পুরহাট প্রতিনিধি 

আজ ১৪ ডিসেম্বর, জয়পুরহাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তীব্র যুদ্ধ ও সাহসী অভিযানের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে জয়পুরহাটকে মুক্ত করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রার খবর পেয়ে পাক সেনারা জয়পুরহাট শহর ছেড়ে বগুড়ার পথে পালিয়ে যায়। ওই দিন থেকেই শত্রুমুক্ত হয়ে স্বাধীনতার আলোয় উদ্ভাসিত হয় জয়পুরহাট।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জয়পুরহাট জেলা ইউনিটের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল আলম রুকু জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৮৫ ডিপ ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর রেললাইন ও প্রধান সড়কগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচবিবি থানার সীমান্তবর্তী বাগজানা ইউনিয়নের ভুঁইডোবা, কয়া ও রামভদ্রপুর এলাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কয়ার বিওপি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া পাক সেনাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সফল অভিযানে বহু পাক সেনা নিহত হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ওই অভিযানের পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসেই পাঁচবিবির বিস্তীর্ণ এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

তিনি আরও জানান, ১৩ ডিসেম্বর কমান্ডার প্রদীপ কুমার কর ও কমান্ডার মোতালেব হোসেনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি দল পাঁচবিবি শহরে প্রবেশ করে থানায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে এলাকাকে মুক্ত ঘোষণা করে। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খন্দকার আছাদুজ্জামান বাবলু ও খন্দকার ওলিউজ্জামান আলমের নেতৃত্বে ভারত সীমান্ত হয়ে আসা একটি দল জয়পুরহাট শহরের ডাকবাংলোতে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জয়পুরহাটকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করে। এ সময় তাদের কভারিং ও সাপোর্ট প্রদান করে প্রদীপ কুমার কর ও মোতালেব হোসেনের নেতৃত্বাধীন দল।

স্বাধীনতার নয় মাসের সংগ্রামকালে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসররা জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণে লিপ্ত হয়। জয়পুরহাট সদরের কড়ই-কাদিপুর এলাকায় একদিনেই সনাতন ধর্মাবলম্বী ৩৭১ জন স্বর্ণশিল্পীসহ তাদের পরিবার-পরিজনকে হত্যা করা হয়। পাগলা দেওয়ান এলাকায় হত্যার পর হাজারো মুক্তিকামী মানুষকে গণকবরে সমাহিত করা হয়। জেলার অন্যান্য এলাকাতেও চালানো হয় একই ধরনের বর্বরতা।

শহীদদের স্মরণে শহরের শহীদ ডা. আবুল কাশেম ময়দানে নির্মাণ করা হয়েছে ৭১ ফুট উচ্চতার ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ’ এবং জেলা প্রশাসন চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ। পাশাপাশি পাগলা দেওয়ান, কড়ই-কাদিপুর, পাঁচবিবির বকুলতলা ও আক্কেলপুরে গড়ে তোলা হয়েছে বধ্যভূমি।

দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে পাগলা দেওয়ান, কড়ই-কাদিপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

জেলা কমান্ডার জহুরুল আলম রুকু বলেন, “একাত্তরকে উপেক্ষা করার চক্রান্ত চলছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই চক্রান্ত রুখে দিতে হবে। ভেদাভেদ ভুলে প্রগতিশীল মানুষদের এগিয়ে আসার এখনই সময়।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।