জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে এক ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে পথরোধ করে মারধর এবং টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুন (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মামলার পর বৃহস্পতিবার রাতেই কালাই থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
আহত ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন উপজেলার বিয়ালা গ্রামের নুর আলমের ছেলে এবং তার সহকারী আব্দুল আলিম একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে আহত ব্যবসায়ীর বাবা নুর আলম বাদী হয়ে কালাই থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিয়ালা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে হারুনসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—হারুনের ভাই মামুনুর রশিদ, একই গ্রামের রেজাউল ইসলাম, জনাব আলী, রেজাউল করিম ও তোফায়েল আহম্মেদ। পুলিশ জানায়, তারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিনভর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে টাকা সংগ্রহ করে রাতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন ও তার সহকারী। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাত্রাই-বিয়ালা সড়কের বকুল মোড় এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের পথরোধ করে মোটরসাইকেল আটকায়। পরে তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন জানান, হারুন ও তার ভাই মামুনুর রশিদসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক ওই ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে মারধর করে সাড়ে আট লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তারা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বাদী নুর আলম বলেন, “টাকা নিয়ে গেছে সেটা বড় কথা নয়, কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে মারধর করেছে তার বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলার প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

