আর.কে. বাপ্পা, দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার দেবহাটায় গত কয়েক বছরের মতো এবারও ইছামতি নদীতে দুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী। নদীতে প্রতিমা বিসর্জনে নামেনি কোনো বড় নৌবহর। দু-একটি নৌকায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। একসময় বিজয়া দশমীতে ইছামতি নদীর দুই পাড়ে দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা বসত। দূরদূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ আসতেন সেই উৎসব দেখতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগেও ইছামতি নদীতে দুই দেশের মানুষের অংশগ্রহণে বিজয়া দশমীর মিলনমেলা হতো। নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমাতেন দর্শনার্থীরা, আর শত শত নৌকায় মুখর থাকত নদী। তবে ২০১২ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর নৌকাডুবিতে মৃত্যুর ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে ভারতীয় প্রশাসনের কড়াকড়ি বাড়ে। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় দুই বাংলার এই মিলনমেলা। সেই থেকে দুই দেশের মানুষ নিজ নিজ সীমান্তের মধ্যে পৃথকভাবে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে আসছেন।
এবার দেবহাটা উপজেলার ২১টি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। পূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েক দফায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়েছে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

