স্টাফ রিপোর্টার,নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় দাফনের সাত মাস পর কবর থেকে নিরিবিলি পিকনিক স্পটের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মুকুল মোল্যার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য উত্তোলন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) বিকালে উপজেলার লক্ষ্মীপাশা কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে তার মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। মুকুল মোল্যা লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত রুহুল আমীন মোল্যার ছেলে।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের (২৭ আগস্ট) বিকেলে পিকনিক স্পটে আসেন একই উপজেলার রাজপুর এলাকার ভাড়াটিয়া আবু সাঈদ,আরিনা জান্নাতুল ও সাহানুর বেগমসহ কয়েকজন। এ সময় রাত্রিযাপনের জন্য কক্ষ ভাড়া নেয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে বাকবিতন্ড হয় ব্যবস্থাপক মুকুলের। একপর্যায়ে তারা সবাই মিলে মুকুল কে মারধর করেন।
এ সময় মুকুল কে অসুস্থ অবস্থায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মুকুল কে মারধরের বিষয়টি পরিবার তখনও জানতো না। এ কারণে মুকুলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে ২৮ আগস্ট দাফন করে তার পরিবার।
দাফনের কয়েকদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পার্ক ব্যবস্থাপক মুকুলকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিহতের পরিবারের নজরে এলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়। ওই বছরের ২ নভেম্বর লোহাগড়া আমলি আদালতে নিহতের বড় বোন রেহানা পারভীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডি কে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে আদালত সংস্থাটি কে মুকুলের মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য অনুমতি দেন।
নড়াইল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বুধবার(৮এপ্রিল)সকালে মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন,আদালতের নির্দেশে মুকুল মোল্যার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

