Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বর্ষবরণ শেষে বর্জ্যের স্তূপে ঢেকে গেল যশোর শহর

যশোর প্রতিনিধি
এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ৭:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি

বরাবরের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে যশোরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। তবে উৎসব শেষে শহরের প্রধান অনুষ্ঠানস্থলসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ জমে জনদুর্ভোগ ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র পৌরপার্কে মানুষের ঢল নামে। পান্তা-ইলিশ, বৈশাখী পোশাক, মুখোশ, ঢাকের বাদ্য আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় দিনভর উৎসবমুখর ছিল পুরো এলাকা। সন্ধ্যার পরও ছিল উৎসবের আমেজ, যদিও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার কারণে রাতের অনুষ্ঠানগুলো ইনডোরে অনুষ্ঠিত হয়।

তবে এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রায় দেখা দেয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব ও পরিকল্পনার দুর্বলতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত রুট নিয়ে বিভ্রান্তি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা পুরো আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব বলেন, “কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না, হঠাৎ করেই যানবাহন ঢুকে পড়ছিল—এটা অত্যন্ত হতাশাজনক।”

বিবর্তন যশোরের সভাপতি নওরোজ আলম খান চপল বলেন, পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে শোভাযাত্রার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। চারুপীঠের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদও সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে এ আয়োজনকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বিশৃঙ্খল বলে উল্লেখ করেন।

উৎসবের পরদিন বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। পৌরপার্কসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিণত হয় যেন খোলা ডাস্টবিনে। দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, টিস্যু, খাবারের প্যাকেট, থালা-বাসনসহ নানা ধরনের বর্জ্য। কোথাও কোথাও পচা খাবার থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা গরমে আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উৎসব শেষে এমন নোংরা পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কামাল হোসেন নামে এক বাসিন্দা বলেন, “এখানে প্রতিদিন হাঁটতে আসি, কিন্তু আজকের পরিবেশে দাঁড়ানোই কঠিন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।”

জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল জানান, এ ধরনের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। পচনশীল বর্জ্য থেকে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ছড়াতে পারে।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এবছর পৌরপার্কে ৫৫ থেকে ৬০টি স্টল বসানো হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জায়েদ হোসেন বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তবে সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবি, যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকেও দায়ী করা হচ্ছে, কারণ অনেকেই যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলে রেখেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন, আয়োজক ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।