কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ-কচুয়ার সড়কের কড়ইয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি খোলা মাঠে অস্থায়ীভাবে বসতি ঘরে বসবাস করছে বেদের একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। তাদের নির্দিষ্ট ঘরবাড়ি না থাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য তারা বিচিত্র সব পেশায় নিয়োজিত। নর-নারী ও শিশুদের জীবনযাপন ও কথাবার্তায় রয়েছে ভিন্নতা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের কড়ইয়া ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি খোলা মাঠে বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি ছাউনি বানিয়ে গত এক মাস ধরে বসবাস করছে বেদের একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। এখানে ১৬টি বেদে পরিবারে মোট ৫৫ জন সদস্য রয়েছে। তাদের কারও নিজস্ব ঘরবাড়ি বা সম্পত্তি নেই। তাদের মূল ঠিকানা বিক্রমপুর এলাকা।
টানা কয়েকদিনের কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণে তাদের বসতি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নেই কোনো আয়-রোজগার। অনেকেই অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। বর্তমানে কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
বেদে নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন আর গ্রামের মানুষ সাপ খেলা দেখতে আগ্রহী নয়। তাদের চিকিৎসা সেবাও নেয় না কেউ। সাপে কাটার ঘটনাতেও আগের মতো তাদের ডাক পড়ে না। ফলে তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা ও সংস্কৃতি প্রায় বিলুপ্তির পথে।
তারা জানান, একসময় শুধু নারীরাই সাপ খেলা দেখিয়ে বা কবিরাজি করে আয় করতেন। এখন নারী-পুরুষ উভয়েই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে ঘুরেও আগের মতো উপার্জন করতে পারেন না। তাছাড়া আগের মতো এখন আর সহজে সাপও পাওয়া যায় না এবং মানুষ তাদের চিকিৎসাও গ্রহণ করে না।
আলী হোসাইন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে বাইরে বের হতে পারছেন না। সন্তানদের নিয়ে পানির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। শুকনা কোনো জায়গা না থাকায় সন্তানদের কাঁধে নিয়ে পানির ওপর বসে থাকতে হয়। তিন দিন ধরে তারা কাজে বের হতে পারেননি। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে, রান্না করার সুযোগও নেই। সন্তানদের খাওয়ানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে।
অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী বেদে নারী মর্জিনা বেগম বলেন, খোলা আকাশের নিচে কষ্টের জীবন কাটাতে হচ্ছে। সিংগা লাগানো, পোকা তোলা ও বিভিন্ন ছোটখাটো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। পলিথিনের তাঁবুতে বসবাস করছেন তারা। অভাবের কারণে সন্তানদের পড়াশোনাও করাতে পারেননি।
কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নোমান হোসেন বলেন, এই বেদে সম্প্রদায় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। তারা শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাকসহ মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তিনি তাদের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের দাবি জানান।

