Nabadhara
ঢাকারবিবার , ১০ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিবেশ অধিদপ্তরে আটকে আছে যশোরের ৩৭৫ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের হালনাগাদ লাইসেন্স

যশোর প্রতিনিধি
মে ১০, ২০২৬ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

যশোর প্রতিনিধি

যশোর জেলার ৩৭৫টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এর আগে স্বাস্থ্য বিভাগ ৬২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করলেও পরবর্তীতে অনেকগুলো আবারও চালু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে নানা জটিলতার কথা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় মোট ৪১০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৮টি ক্লিনিক ও ২২২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বর্তমানে হালনাগাদ লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৩৫টির। এর মধ্যে যশোর শহরে ২৩টি এবং বিভিন্ন উপজেলায় ১২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় তা ঝুলে আছে। পরিদর্শনে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সেবিকা, প্যাথলজিস্ট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিবেশের ঘাটতি পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিস বলছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না পাওয়ার অজুহাতে অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। লাইসেন্সের বিষয়ে তাগিদ দিলে মালিকপক্ষ দায় চাপাচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর।

যশোর শহরের কয়েকজন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানান, কয়েক মাস আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। লিকুইড ওয়েস্ট (তরল বর্জ্য সংরক্ষণাগার) নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে গেলে ছোট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে লিকুইড ওয়েস্ট তৈরি না করে ছাড়পত্র প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রেখে লাইসেন্স নবায়নে গড়িমসি করছে। ফলে চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম ও প্রতারণা চলছেই। এতে রোগীরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “যেসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হালনাগাদ লাইসেন্স রয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যারা অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হচ্ছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় লাইসেন্স কার্যক্রম আটকে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সেবিকা ও প্যাথলজিস্ট ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ নেই। ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার না থাকায় সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।”

পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, “বহু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে লিকুইড ওয়েস্ট তৈরি করা হয়নি, তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেই ছাড়পত্র নিতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যশোরে ৬০টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে সিভিল সার্জন অফিস। নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সেবিকা না থাকা, নিম্নমানের অপারেশন থিয়েটার, অপরিচ্ছন্ন প্যাথলজি বিভাগ, অতিরিক্ত বেড ব্যবহার, লাইসেন্স না থাকা ও অপচিকিৎসার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সিলগালা হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই পরে গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।