মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
স্ট্রোকজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি কমাতে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে “অ্যাকিউট স্ট্রোক ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভা কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল এবং সঞ্চালনা করেন মেডিকেল অফিসার ডা. অনিক দত্ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুস সাদিক এবং কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন কবীর। কর্পোরেট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. জাহানারা আরজু শিউলি।
বক্তারা বলেন, বর্তমানে স্ট্রোক একটি নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীকেই মৃত্যুঝুঁকি ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব থেকে রক্ষা করা সম্ভব। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মূল প্রবন্ধে ডা. সুমন কবীর স্ট্রোকের ধরন—ইসকেমিক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক—এর কারণ, ঝুঁকি, প্রতিরোধ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল এবং অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসকে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “গ্রামাঞ্চলে স্ট্রোক বিষয়ে সচেতনতা এখনো কম। উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।”
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, “স্ট্রোক রোগীদের জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশেষ অতিথি ডা. মো. নাজমুস সাদিক বলেন, “নিয়মিত বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও প্রশিক্ষণ স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
সেমিনারে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা স্ট্রোক ব্যবস্থাপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা, জরুরি চিকিৎসা প্রোটোকল এবং আধুনিক ওষুধ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন রফিকুল ইসলাম সরকার। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈজ্ঞানিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

