খোকসা(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ (RHD) খোকসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গোলচক্কর নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে। ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জারি করা ‘নোটিশ টু কমেন্স’ অনুযায়ী, আহলাদীপুর–রাজবাড়ী–পাংশা–কুমারখালী–কুষ্টিয়া (চৌরহাস) আঞ্চলিক মহাসড়কের (R-710) নির্দিষ্ট অংশে এ উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় খোকসা বাসস্ট্যান্ডে একটি পরিকল্পিত গোলচক্কর নির্মাণের পাশাপাশি কুমারখালী ও সৈয়দ মাসুদ রুমি সেতু টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কাজও করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনাপ্রবণ এই এলাকায় নিরাপদ ও পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে এখানে একটি অপরিকল্পিত আইল্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ভ্যানচালক ইমরানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এরপর স্থানীয় জনসাধারণ ও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সেই আইল্যান্ড অপসারণ করা হয় এবং পরিকল্পিত গোলচক্কর নির্মাণের দাবি জোরালো হয়।
পরবর্তীতে তৎকালীন ঝিনাইদহের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বৈজয়ন্ত বিশ্বাস (ভিক্টর) বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ রাখেন। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি পিছিয়ে গেলেও অবশেষে এর অনুমোদন মিলেছে।
প্রায় ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড। নির্দেশনা অনুযায়ী ২ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ২৭০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সড়ক বিভাগ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল করিম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে কাজ মূলত আগামী জুন–জুলাই মাসে শুরু হবে।
তিনি বলেন, “নোটিশ জারি হয়েছে ঠিকই, তবে বাস্তবিক কাজ শুরু হবে আগামী জুন-জুলাই মাসের মধ্যে।”
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খোকসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং সড়ক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করে খোকসা বাসস্ট্যান্ডকে আধুনিক, নিরাপদ ও দৃষ্টিনন্দন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড়ে রূপ দেওয়া হবে।

