নাদিম হায়দার, সিরাজদিখান(মুন্সীগঞ্জ ) প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বসানো অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলোর অধিকাংশে বর্জ্য অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হলেও রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বসানো অস্থায়ী পশুর হাটের অবশিষ্ট বর্জ্য ও অবকাঠামো এখনো অপসারণ করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ঘোষিত আটটি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের মধ্যে সাতটির বর্জ্য অপসারণ ও মাঠ পুনর্বাসনের কাজ চললেও রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এখনো বিপুল পরিমাণ বাঁশ, খুঁটি ও হাটের বিভিন্ন সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
হাট ইজারার শর্ত অনুযায়ী, হাট সমাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য ও অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণ করে মাঠ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও ঈদের সাতদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হাটে ব্যবহৃত বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী। এছাড়া বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য মাঠ কেটে তৈরি করা ড্রেনও এখনো ভরাট করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয় খুললে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শারীরিক শিক্ষা (পিটি) ও অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, দীর্ঘ ছুটির পর বিদ্যালয় খুলতে যাচ্ছে। কিন্তু মাঠের বর্তমান অবস্থা দেখে তারা হতাশ ও উদ্বিগ্ন। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং মাঠ সংস্কারের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে অস্থায়ী পশুর হাটের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেলোয়ার হোসেন দুলাল (মেম্বার) বলেন, “প্রতিদিনই কাজ হচ্ছে। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ বলেন, “আমি ইতোমধ্যে সকল ইজারাদারকে নির্দেশনা দিয়েছি, বিদ্যালয় খোলার আগেই যেন হাটের সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়। যারা এখনো কাজ সম্পন্ন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত হাটের অবশিষ্ট বর্জ্য ও অবকাঠামো অপসারণ করে মাঠকে ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।

