অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারের দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তরুণদের শপথ গ্রহণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের খেলার মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, তরুণ সংগঠক, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করান কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য এবং কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু। এ সময় বক্তব্য দেন কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব মনোয়ারা বেগম, সদস্য মেজবাহউদ্দিন মাননু, মোসা. দুলালী, মো. কবির তালুকদার, মো. নজরুল ইসলাম, ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাবেক সভাপতি নাজমুস সাকিব এবং প্রান্তজনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদসহ অন্যান্যরা।
শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তরুণরা পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়নের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ, সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ। তাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ন্যায়ভিত্তিক জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি—কয়লা, তেল ও গ্যাস—পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো দুর্যোগ আরও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী তরুণরা জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে নিজেদের মতামত লিখে একটি সমর্থনসূচক ব্যানারে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজক ছিল কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চ, আমরা কলাপাড়াবাসী, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক, প্রান্তজন এবং একশনএইড বাংলাদেশ।

