দাউদ রানা,চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জোতপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে গভীর রাতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশসহ অন্তত ১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আকস্মিক এ ভাঙনে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ও মূল্যবান মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনতা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন কে.কে. পশ্চিম জোতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি টিনশেড ভবনের একাংশ নদীতে ধসে পড়ে। একই সঙ্গে আশপাশের অন্তত ১২টি বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ধসে পড়া অংশ নদীতে পড়ে রয়েছে। একটি বসতবাড়ির টিনের ঘরের অংশও নদীতে ভাসতে দেখা যায়।
ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি সাময়িক ব্যবস্থা হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল মোল্লা জানান, গভীর রাতে মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে ভয়াবহ এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। এতে ১২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় আশপাশের অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
আরেক বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “শুধু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে এই ভয়াবহ নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত একটি টেকসই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর যমুনা নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি বিলীন হলেও স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

