কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকবার ধর্ষণের পর ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্ল্যাকমেল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মিনারা খাতুন উপজেলার বালাপাড়া চৌকিরঘাট গ্রামের প্রবাসী মোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্ত দুলাভাই মেজবায়ুল হক রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে।
মিনারা খাতুন বাদী হয়ে গত ১১ মে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
জীবিকার তাগিদে দুই বছর আগে স্ত্রী, দুই ছেলে ও বৃদ্ধা মাকে রেখে প্রবাসে যান মোজাম্মেল হোসেন। এ সময় মেজবায়ুলের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নেওয়ার সুবাদে তাদের পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকায় একা পেয়ে শয়নঘরে মিনারা খাতুনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন মেজবায়ুল। এ সময় তিনি মোবাইলে গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী জানান, ধর্ষণের সময় তার ছোট ছেলেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে রাখতেন অভিযুক্ত।
একপর্যায়ে মিনারা গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং শিশুটি অসুস্থ হয়। মেজবায়ুল কৌশলে প্রবাসী স্বামীকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। দেশে ফিরে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে মোজাম্মেল হোসেন বিচলিত হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত মেজবায়ুল তার স্ত্রীর কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রবাসী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “সাজানো সংসার নিঃস্ব করে দিয়েছে লম্পট মেজবায়ুল। নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা করেছি। সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযুক্ত মেজবায়ুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা ও নাটক সাজানো হয়েছে। আমিও সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
এলাকায় ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পিবিআই তদন্ত শুরু করলে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

