মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন সংলগ্ন এলাকা থেকে গভীর রাতে একটি নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে কান্নার শব্দ শুনে হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্স ও রোগীর স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসাসেবা দেন।
সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে কয়েকজন রোগীর স্বজন ও কর্তব্যরত নার্স দ্রুত নিচে নেমে যান। পরে হাসপাতাল চত্বরে ডাস্টবিন সংলগ্ন স্থান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত এক নার্স জানান, নবজাতকটির জন্ম হয়েছে অল্প সময় আগে। তবে শিশুটির জন্ম গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আশপাশের কোনো ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা অন্য কোথাও জন্মের পর তাকে হাসপাতালে এনে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া শিশুটি একটি কন্যাশিশু। উদ্ধারের সময় সে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিল। বর্তমানে তাকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী আশিক বলেন, “ব্রাজিলের খেলার প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর আমি ওই স্থানে গিয়েছিলাম। তখন সেখানে কোনো শিশু ছিল না। কিছুক্ষণ পর শুনতে পাই, কে বা কারা সেখানে একটি নবজাতককে ফেলে রেখে গেছে।”
এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কে বা কারা এবং কী কারণে নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। নবজাতকের পরিচয় শনাক্ত এবং তাকে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

