নাদিম হায়দার, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামে অপহরণের ৫২ দিন পর আওলাদ হোসেন শেখ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন আওলাদ হোসেন শেখ। পরদিন তার ভাই সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৩ মে আওলাদের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে আওলাদের স্ত্রী রানী বেগম, মানিক বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের এক পর্যায়ে গত ৩১ মে মানিক বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৩০ জুন সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রিপন ও বিন আমিন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাইনপাড়া গ্রামের একটি গরুর খামারের রান্নাঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় আওলাদ হোসেন শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আওলাদ হোসেন রানী বেগমকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়া এবং জমিজমা স্ত্রী রানী বেগমের নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মানিক বেপারী কৌশলে আওলাদ হোসেনকে একটি গরুর খামারে নিয়ে যান। সেখানে সাইফুল ইসলাম তাকে চেপে ধরেন এবং মানিক বেপারী কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করেন। এ সময় বাইরে রিপন ও বিন আমিন পাহারায় ছিলেন। পরে তারা মরদেহ খামারের রান্নাঘরের ভেতরে গর্ত করে পুঁতে রাখেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

