Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আর্থিক সংকট পেছনে ফেলে কণিকার গোল্ডেন জিপিএ-৫, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন জয়পুরহাটের কণিকা রাণী পাল। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ১৭২ নম্বর পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তবে অসাধারণ এই সাফল্যের পরও উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন মেধাবী কণিকা।

কণিকা জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় মেধাবী ছিলেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিতে তার রোল ছিল এক থেকে তিনের মধ্যে। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ কখনো কমেনি।

কণিকার বাড়ি সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের মাধাইনগর বাজারের পাশে। জরাজীর্ণ মাটির ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। বাবা গোপাল চন্দ্র পাল জয়পুরহাট শহরের একটি টেইলার্সে স্বল্প বেতনে দর্জির কাজ করেন। মা মালতি রাণী পাল বাড়িতে মাটির পাত্র তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন। তাদের সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। এর মধ্যে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানো তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

অভাবের কারণে একসময় কণিকার পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন তার বাবা। বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত কণিকার পড়াশোনার দায়িত্ব নেন। সারা বছর বিনা পারিশ্রমিকে তাকে পড়িয়েছেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কণিকাকে সহযোগিতা করেছেন।

শিক্ষকদের সহযোগিতা ও নিজের অদম্য প্রচেষ্টায় কণিকা এবার এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। কিন্তু সাফল্যের পর নতুন দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে তার জীবনে। এতদিন বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করলেও কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই পরিবারের।

কণিকার মা মালতি রাণী পাল বলেন, ‘মেয়েটা সারাক্ষণ বই নিয়ে পড়ে থাকে। ঘরে খাবার না থাকলেও পড়াশোনা ছাড়তে চায় না। পড়ালেখা বন্ধের কথা বললেই ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ে। ওর বাবা সারাদিন অন্যের দোকানে দর্জির কাজ করে রাতে বাড়ি ফেরে। সামান্য আয়ে সংসারই চলে না। আমিও মাটির পাত্র তৈরি করে কিছু আয় করি। এখন সংসার চালাব, নাকি মেয়েকে পড়াব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণির শেষ দিকে অভাবের কারণে একসময় কণিকার পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছিল তার বাবা। বিষয়টি জানার পর মাধ্যমিক পরীক্ষা পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে তাকে সহযোগিতা করেছি। অর্থের অভাবে মেয়েটি যদি কলেজে ভর্তি হতে না পারে, তাহলে তার এই অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। তাই কণিকার পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

প্রতিবেশী ও মাধাইনগর বাজারের ব্যবসায়ী মিলটন খন্দকার বলেন, অভাবের কারণে কণিকার পরিবারকে অনেক সময় অনাহারেও দিন কাটাতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেধাবী কণিকার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘অভাবের কারণে যেন কোনো দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা সবসময় থাকবে। এবার বিদ্যালয় থেকে ৫৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪২ জন পাস করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কণিকা সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অভাব-অনটন ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কণিকার পথচলা থামাতে পারেনি। মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে সে সাফল্য অর্জন করেছে। শুধু অর্থের অভাবে যেন এমন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থেমে না যায়, এজন্য সামর্থ্যবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।’

কণিকার স্বপ্ন ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করা। এখন তার সেই স্বপ্ন কতটা পূরণ হবে, তা নির্ভর করছে উচ্চশিক্ষার পথে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার ওপর। মেধা ও সাফল্যের পরও আর্থিক সংকটে থাকা কণিকার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।