নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্যালাইন মজুত থাকার পরও রোগীকে তা সরবরাহ না করে বাইরে থেকে কিনে নিতে বলার অভিযোগে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত নোটিশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অভিযুক্ত নার্স মাসুদা আক্তার হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ১১৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রোগী তারিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে রোগী ও তাঁর স্বজনেরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন, হাসপাতালে স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও ওয়ার্ড ইনচার্জ মাসুদা আক্তার স্যালাইন সরবরাহ না করে বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে বলেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রোগীর বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার খরচের টাকা তিনি নিজ পকেট থেকে ফেরত দেন এবং সংশ্লিষ্ট নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মাসুদা আক্তারকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান বলেন, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই নার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে ছাত্রনেতা ফজলে রাব্বি বলেন, রোগীকে স্যালাইন না দেওয়ার দায় শুধু নার্সের কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হাসপাতালে ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে অতীতেও আন্দোলন হয়েছে। কিছুদিন সেবার মান ভালো থাকার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। হাসপাতালের ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হলে হাসপাতালের সেবার মান আরও উন্নত হবে।

