Nabadhara
ঢাকাবুধবার , ২৬ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিরামপুরে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে মাসে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ

Link Copied!

মো. ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘অতিরিক্ত ক্লাস’-এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনা ও এর বিপরীতে নেওয়া ফি নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাসে অংশ নিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ক্লাসে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এক ধরনের বাধ্যবাধকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই এসব অতিরিক্ত ক্লাস পরিচালনা করা হয়।

অতিরিক্ত ক্লাসের মাসিক ফি নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক বলছেন, সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একই পরিমাণ টাকা নেওয়া হয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য প্রতি মাসে তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। একেকটি ব্যাচে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী এসব ক্লাসে যুক্ত রয়েছে বলেও তারা দাবি করে।

এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বুঝিয়ে পড়ানোর পরিবর্তে অনেক সময় মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বায়োলজিসহ অন্যান্য বিষয়েও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণের অভিযোগ করেছে ওই শিক্ষার্থী।

আরেক শিক্ষার্থী জানায়, অতিরিক্ত ক্লাসের মান সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় এক মাস ক্লাস করার পর সে আর অংশ নেয়নি। নতুন শিক্ষার্থীদেরও কিছুদিন ক্লাস করে নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সে।

এদিকে অতিরিক্ত ক্লাসে অংশ না নিয়ে বাইরে পড়াশোনা করলে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এ কারণে এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাহাজান আলী বলেন, ‘অতিরিক্ত পাঠদানের মূল সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের। পরিপত্রের আলোকে শিক্ষকরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন।’ শিক্ষার্থীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কোচিংয়ে অংশ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তাঁর দাবি, শ্রেণিকক্ষে অন্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, যা পরে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মীমাংসা করা হয়েছে।

শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘পরিপত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস করানো হচ্ছে।’ তবে মাসে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয় না; কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়।’

৩ হাজার টাকা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘নির্ধারিত ১২ দিনকে এক মাস হিসেবে না ধরে ৩০ দিন পড়ানো হচ্ছে বলেই এভাবে হিসাব করা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত ক্লাসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৬ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৬১ শতাংশে।

তবে ফলাফল কমে যাওয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লাসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ। তাঁর ভাষ্য, নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি ও শতভাগ মেধা যাচাইয়ের কারণে ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। ‘এই কোচিং না করলে ফলাফল আরও খারাপ হতো’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষকরা অতিরিক্ত ক্লাস করাতে পারবেন, তবে তা নীতিমালা অনুসরণ করেই করতে হবে।’ অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য নীতিমালায় নির্ধারিত ফি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট নীতিমালাটি অনেক পুরোনো। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, অতিরিক্ত ক্লাসের নামে নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না এবং ক্লাসে অংশগ্রহণে কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।