পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা এলাকায় নির্মাণাধীন জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশনে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রকল্পের বালু ভরাটের পাইপ ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ঢাকা-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, রিংটেক লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কদমতলায় জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ করছে। প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পাইপের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে ভরাট করা হচ্ছিল। এ কাজের দায়িত্বে রয়েছে তাহাসিন এন্টারপ্রাইজ নামে আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদার মো. জাকির হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিএনপি নেতা কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতি বর্গফুট বালুর জন্য এক টাকা হিসাবে মোট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা নির্মাণাধীন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে বালু ভরাটের পাইপ ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে সাময়িকভাবে বালু ভরাটের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর শ্রমিক ও প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় এক কিলোমিটার পাইপ মেরামত করে পুনরায় বালু ভরাটের কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে বালু ভরাটের কাজ শেষ করতে না পারলে জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশন নির্মাণকাজ ব্যাহত হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, “আমি কোনো চাঁদা চাইনি। স্থানীয় কিছু ছেলেপান চা-পানির খরচ হিসেবে কিছু টাকা চেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি আমি মীমাংসা করে দিয়েছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। পাইপ ভাঙার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

