নওগাঁ প্রতিনিধি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের মরদেহ আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ-এর কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে শনাক্ত মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকায় শনাক্ত নওগাঁর সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং মার্কাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারের কাছে বিনা খরচে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্ত হওয়া আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ দেশে আসছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইউএনও জানান, সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুরুতে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত ও দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

