Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ২৮ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, সাড়ে ৭ বছরেও শেষ হয়নি ভবন

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
আগস্ট ২৮, ২০২৬ ৮:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি

কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসাসেবা চলছে মাত্র ১০০ শয্যায়। প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন হাজারের বেশি রোগী। ভর্তি রোগীর সংখ্যাও নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে জায়গার সংকটে হাসপাতালের বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ২৫০ শয্যার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যে শুরু হওয়া খুলনা সদর হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ সাড়ে সাত বছরেও শেষ হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ ঝুলে থাকায় হাসপাতালটিতে বাড়ছে রোগীর চাপ। একপর্যায়ে প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি করোনাকালেও প্রকল্পের কাজ থমকে যায়। এতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়। ঠিকাদারি জটিলতা ও কাজ ফেলে রাখার অভিযোগও উঠেছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত ১০০ শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বহির্বিভাগের কার্যক্রমও চলছে হাসপাতালের বাইরের টিনশেড স্থাপনায়। বর্তমানে হাসপাতালে ৩৫ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। শিশুদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে মাত্র ছয়টি। সচল রয়েছে একটি অপারেশন থিয়েটার।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন এক হাজারের বেশি মানুষ। ফলে প্রতিদিনই নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

শুধু রোগীর চাপ নয়, হাসপাতালের পুরোনো ভবন নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন’ লেখা সতর্কবার্তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, খুলনা সদর হাসপাতালের শয্যা বাড়ানোর প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদন পায়। পরের বছর আগস্টে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে দরপত্র আহ্বানের প্রায় তিন বছর পর ২০২০ সালে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ১২তলা ভবনের ফাউন্ডেশন নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম পর্যায়ে ছয়তলা পর্যন্ত কাজ এগোয়।

এরপর করোনাভাইরাসের মহামারিতে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

২০২৬ সালে নতুন প্রকল্পের আওতায় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে ফের দরপত্র আহ্বান করা হয়। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ভবন নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য এবার প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। নতুন প্রকল্পের আওতায় ভবনে আরও দুটি তলা যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে।

খুলনা গণপূর্ত অধিদপ্তর-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে নতুন করে দুটি কাজের দরপত্র করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু হয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় ভবনে দুটি ফ্লোর যুক্ত হবে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্মাণকাজ শেষ হলে খুলনা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্প অনুযায়ী ভবনে থাকবে দুটি অপারেশন থিয়েটার, চারটি লিফট ও দুটি সিঁড়ি। চারতলা পর্যন্ত জরুরি সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওপরের তলাগুলোতে থাকবে রোগীদের শয্যা। হাসপাতালের ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য লাইনও স্থাপন করা হয়েছে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার পেছনে ঠিকাদারি জটিলতার অভিযোগও রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৎকালীন সময়ে হাসপাতালের নির্মাণকাজের টেন্ডার পেয়েছিল জিকে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স কাজটি নেয়। প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করলেও দীর্ঘ সময় ধরে কাজের অগ্রগতি ছিল ধীর।

ওই প্রকৌশলীর দাবি, প্রায় চার বছর সময় পার হওয়ার পর ৫ আগস্টের পর প্রায় ৯ কোটি টাকার কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ঠিকাদার কাজ থেকে সরে যান। পরে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এতদিনে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও আগের অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করা প্রয়োজন।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে খুলনা সদর হাসপাতালের যে সক্ষমতা থাকার কথা, বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না। বছরের পর বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প ঝুলে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে এত দীর্ঘ সময় লাগা জনগণের প্রতি অবহেলারই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ শয্যার বিপরীতে এক হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে সদর হাসপাতালের ওপরও রোগীর চাপ বাড়ছে। কিন্তু সদর হাসপাতালেও পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ কমছে না। স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সময়ক্ষেপণের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

খুলনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ১০০ শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও নিয়মিত এর চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। নতুন ভবনের কাজ শেষ হলে আরও ১৫০ শয্যা চালু করা সম্ভব হবে। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা অনেক বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, নতুন ভবন চালু হলে ১০টি কমন সিসিইউ, ১০টি আইসিইউ এবং ১০টি স্ক্যানো বেড চালুর সুযোগ থাকবে। ভবনের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা গেলে চিকিৎসাসেবার পরিধিও আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলে খুলনা সদর হাসপাতালের দীর্ঘদিনের শয্যা সংকট অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি বাড়বে উন্নত চিকিৎসাসেবার সুযোগ। তবে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।