রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আওতাধীন এলাকায় বর্তমানে ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে শুধু খুলনা অঞ্চলেই ঘাটতি ১২৩ মেগাওয়াট।
বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৭৫৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫৭৬ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ১৭৯ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ৫৭৩ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৪৫০ মেগাওয়াট। ফলে খুলনা অঞ্চলে ঘাটতি রয়েছে ১২৩ মেগাওয়াট।
ওজোপাডিকোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে খুলনায়ই সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। খুলনা জেলায় ঘাটতির পরিমাণ ৪৮ মেগাওয়াট। এছাড়া কুষ্টিয়ায় ২২, রাজবাড়ীতে ১৪, ঝিনাইদহে ৯, মাগুরায় ৮, ফরিদপুর ও বাগেরহাটে ৬ মেগাওয়াট করে এবং গোপালগঞ্জে ৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।
এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় ২ মেগাওয়াটসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।
ওজোপাডিকো জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিনের বিভিন্ন সময়ে এলাকাভেদে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন আবাসিক গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎ ঘাটতি দ্রুত কমিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে সামনে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

