দৌলতপুরে বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলে নিহত
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ছেলে নূর আলম জিকু (৪৫)। এর কয়েক ঘণ্টা পর জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশেই দাফন করা হয়েছে তাকে। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ভাইরা ভাই আকিদুল ইসলাম (৪০)। মর্মান্তিক এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের লালনগর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার স্বস্তিপুর জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সামনে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নূর আলম জিকু দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের লালনগর গ্রামের জসিম উদ্দিন ওরফে জামিন দোকানদারের ছেলে। তার বাবা জসিম উদ্দিন (৮৫) বুধবার সন্ধ্যার আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মাগুরা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন নূর আলম জিকু ও তার ভাইরা ভাই আকিদুল ইসলাম। তারা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ভাদালিয়া স্বস্তিপুর জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সামনে পৌঁছালে একটি বালুবাহী ট্রাককে ওভারটেক করার সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে চলে যায়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন জিকু। গুরুতর আহত হন আকিদুল ইসলাম।
পরে স্থানীয়রা আকিদুলকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার বাড়ি মাগুরা জেলায়।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মহিদুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া-হ-১৬-৬৬৪৯ নম্বর মোটরসাইকেলটির চালক নূর আলম জিকু ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যান। মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত জিকুর ভাই রুহুল আমিন ও কবির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বুধবার সন্ধ্যার একটু আগে বার্ধক্যজনিত কারণে আমাদের বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে জিকু তার ভাইরা ভাইকে সঙ্গে নিয়ে শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই ঘাতক ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারায় সে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের সঙ্গে না ঘটে।”
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে লালনগর কবরস্থানে বাবা জসিম উদ্দিন ও ছেলে নূর আলম জিকুকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা-ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো লালনগর গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। জানাজা ও দাফনের সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, বাবার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নূর আলম জিকু মারা যান। জানাজা শেষে বাবা ও ছেলেকে লালনগর কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। এমন ঘটনায় তিনিও মর্মাহত।

