সোহেল রানা বাবু, বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এশিয়ান টেলিভিশন এবং ভোরের আকাশের জেলা প্রতিনিধি মো. কামরুজ্জামানের ছেলে রবিউজ্জামান সিফাতকে (২৩) কৌশলে ইজিবাইকে তুলে অচেতন করে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরে পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণের প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর মোল্লাহাট থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অজ্ঞাত চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সিফাতের বাবা মো. কামরুজ্জামান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বাগেরহাট শহরের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন রবিউজ্জামান সিফাত। এ সময় ইজিবাইকে থাকা চার ব্যক্তি একটি মোবাইল নম্বর লেখা কাগজ দিয়ে তাকে নম্বরটি লিখে দিতে বলেন। বিষয়টি বুঝতে না পেরে সিফাত নম্বরটি লিখতে গেলে তাকে কৌশলে ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইজিবাইকে তোলার পর সিফাতকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর ঘাড়ে ইনজেকশন দেওয়া হলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। গভীর রাতে জ্ঞান ফেরার পর তাঁকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিফাতের বাবা মো. কামরুজ্জামান বলেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে সিফাত কৌশলে ওই স্থান থেকে বের হয়ে মোল্লাহাটের মাদ্রাসা ঘাট এলাকার একটি বাস কাউন্টারে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করেন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন কামরুজ্জামান।
পরে সিফাতকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন কামরুজ্জামান।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

