বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ১০ দিন অবস্থানের পর সেনাসদস্য জীবন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রেমিকা মিষ্টি আক্তারের বাবা। অপহরণ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে শনিবার রাতে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলায় সেনাসদস্য জীবন মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাপমারী গ্রামের খশরু মিয়ার মেয়ে মিষ্টি আক্তার। তিনি ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে জীবন মিয়া উপজেলার তারাটিয়া-পোড়াভিটা জলব্রিজ এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে এবং সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত।
মিষ্টির পরিবারের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে মিষ্টির সঙ্গে জীবন মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর মিষ্টিকে জীবন মিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মিষ্টি বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
ঘটনার পর বিয়ের দাবিতে মিষ্টি প্রায় ১০ দিন জীবন মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা ও শালিস বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে মিষ্টির নিরাপত্তা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিয়ের দাবিতে স্বজন ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিষ্টির পক্ষে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করে দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনগত সমাধানের দাবি জানান।
এদিকে জীবন মিয়া পলাতক থাকায় তার ও পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মিষ্টি ও জীবন মিয়ার প্রেমের ঘটনায় মিষ্টির বাবা খশরু মিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

