যশোর প্রতিনিধি
এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ভুলের কারণে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে আগামী দুই বছর খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তাদের মূল্যায়নে ভুলের কারণে ২ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে।
পুনর্নিরীক্ষণের পর মূল ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া ৩৮০ জন শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছে। এছাড়া ১ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫২ জন শিক্ষার্থী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী।
তিনি বলেন, ‘নির্ভুল ফলাফল প্রকাশের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষকদের এ ধরনের গাফিলতি বা ভুল কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। খাতা মূল্যায়নে ভুল করা পরীক্ষকদের আগামী দুই বছর এসএসসি পরীক্ষার খাতা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।’
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার মূল ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পরদিন থেকে টানা সাত দিন পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় ৮৮ হাজার ৯৭ জন পাস করা শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬২ জন মোট ৭৪ হাজার ৭১৭টি পত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২ হাজার ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে। এর মধ্যে মূল ফলাফলে অকৃতকার্য হওয়া ৩৮০ জন শিক্ষার্থী নতুন করে পাস করেছে। ১ হাজার ৩০৪ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। আর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৫২ জন শিক্ষার্থী।
পুনর্নিরীক্ষণের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তনের বিষয়টি পর্যালোচনা করে খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি ও ভুল করা পরীক্ষকদের শনাক্ত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বোর্ড সূত্র জানায়, শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর এসব পরীক্ষককে আগামী দুই বছর কোনো পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

