ফেনী প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের মধ্য দিয়ে ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে উদ্বোধনস্থল ও জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ফেনী আগমনের মধ্য দিয়ে ফেনীবাসীর সব সমস্যা ও প্রত্যাশা পূরণ হবে। ফেনীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। সরকার গঠনের ছয়-সাত মাসের মাথায় তিনি ফেনী সফরে আসছেন।”
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেও ফেনীর বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে মুহুরী, কহুয়া ও মুছাপুর রেগুলেটর বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি রয়েছে। মুহুরী-কহুয়া বাঁধ নির্মাণকাজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। আর মুছাপুর রেগুলেটর প্রকল্পটি মঙ্গলবার একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাঠপর্যায়ে সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ দাবিও পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ফেনীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেহানা আক্তার রানু, জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সাফায়েত আক্তার নূরসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেহানা আক্তার রানু বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের বার্তা নিয়ে ফেনী আসছেন। তিনি ফেনীবাসীর সব দাবি পূরণ করবেন।”
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে পৌঁছাবেন। এরপর বহুল প্রত্যাশিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উদ্বোধন করবেন। পরে ফুলগাজীতে জনসভাসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফর ঘিরে সব প্রস্তুতি রাতের মধ্যে শেষ হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
এর আগে ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের কথা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভাঙন ও বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা প্রদান এবং ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ফুলগাজীর শ্রীপুরের মজুমদার বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারতের কর্মসূচিও রয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।

