কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের খিলা ১৫২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবন, জরাজীর্ণ টয়লেট ও বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, খিলা গ্রামে ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর নির্মিত একতলা ভবনটি প্রায় তিন বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে সরকারি অনুদান ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত দুটি টিনশেডের চারটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। এর মধ্যে একটি কক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পাশে দুটি ছোট টিনশেডে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ে নেই পরিবেশবান্ধব কোনো টয়লেট। উত্তর-পশ্চিম পাশে থাকা পুরোনো টয়লেটটিও জরাজীর্ণ। দরজা ভাঙা, দেয়ালে ফাটল এবং বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ায় সেটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানাধীন টয়লেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আরও বিপাকে পড়েছেন তারা। এ ছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কাদামাটির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। মাঠে পানি জমে থাকায় খেলাধুলাও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ভবন না থাকায় ছোট টিনের ঘরে অনেক গরমে ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি হলে মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে খেলাধুলা করতে পারি না। ভালো টয়লেটও নেই।’
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র তামিম বলে, ‘টিনশেড ঘরে পড়াশোনা করতে কষ্ট হয়। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। আমরা নতুন ভবন ও একটি ওয়াশ ব্লক চাই।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ে পরিবেশবান্ধব কোনো টয়লেট নেই। আগে পাশের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেটিও ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত একটি নতুন ভবন ও ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, কচুয়ার অভিভাবক ড. আনম এহছানুল হক মিলন এমপির সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। ভবন, টয়লেট ও খেলার মাঠের সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। তারা নতুন ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
কচুয়ার অভিভাবক শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন এমপি এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের সহসভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবীর সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। এ বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। ভবনটি মেরামত ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

