Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষক বদলি: নীতিমালা একদিকে, বাস্তবতা অন্যদিকে

নওগাঁ প্রতিনিধি
অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৭:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয় থেকে বদলি, শূন্য পদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠদের সুযোগ দেওয়া এবং নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এক শিক্ষিকাকে দ্বিতীয়বার প্রশাসনিক শাস্তিমূলক বদলির ঘটনায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এতে পুরো বদলি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর এবং বর্তমান বিদ্যালয়ে তিন বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করা যাবে না। পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক কর্মরত থাকা বিদ্যালয় থেকেও বদলির আবেদন গ্রহণের সুযোগ নেই। একই বিদ্যালয়ে একাধিক আবেদনকারী থাকলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। তবে এসব শর্ত উপেক্ষা করে বদলি কার্যকর করার অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষা অফিসের তালিকা অনুযায়ী, ফয়জাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনজন এবং রনাহার, পরশুরামপুর ও উত্তর শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন করে শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। এরপরও এসব বিদ্যালয় থেকে বদলির আবেদন গ্রহণ ও আদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া উত্তর সাদিশপুর ও জগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দুজন করে শিক্ষক বদলি হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বারাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শূন্য পদের বিপরীতে সাতজন শিক্ষক আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন জ্যেষ্ঠ ছিলেন। তিনি ২০০৩ সালের ১৬ জুন চাকরিতে যোগ দেন এবং ২০১২ সাল থেকে বর্তমান বিদ্যালয়ে কর্মরত। তবে তাঁকে বদলি না করে ২০২৩ সালে কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়া সহকারী শিক্ষিকা মাহজাবিন নাজনীনকে বদলি করা হয়েছে।

আব্দুল মতিন বলেন, বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্মস্থল হওয়ায় তাঁকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাড়ির কাছের বারাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদ শূন্য থাকায় তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বদলি আদেশ দেখে তিনি ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছেন। মাস্টার ট্রেইনার ও উপজেলা স্কাউট কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই শিক্ষকের দাবি, নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।

বারাতৈল ছাড়াও নিহনপুর, রামশাপুর, বালুভরা, চাঁপাডাল, বামনপাড়া ও থুপশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে জ্যেষ্ঠদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোন মানদণ্ডে শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদিত শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও কিছু বদলি আদেশে ‘প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে’ শর্ত যুক্ত করায় অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।

সহকারী শিক্ষিকা শারমিন সুলতানাকে ২০১৯ সালে প্রশাসনিক শাস্তি হিসেবে নালুকাবাড়ি থেকে শহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তিন বছর পর তিনি হাটশাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে আবারও প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর ইনক্রিমেন্ট স্থগিত রাখা হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগ, আগের বদলির পর নির্ধারিত তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তাঁকে দ্বিতীয়বার বদলি করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বদলি আদেশের ১৯ নম্বর ক্রমিকে তাঁর নাম রয়েছে। শারমিন সুলতানার দাবি, তিনি স্থানীয়ভাবে আবেদন করেননি; সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন এবং সেখান থেকেই তাঁর বদলি হয়েছে। বিষয়টি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জানেন বলেও তিনি দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সদস্যসচিব করে গঠিত আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আটজন শিক্ষককে বদলি এবং ১১ জনকে প্রতিস্থাপনের আদেশ দেওয়া হয়। তবে বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।

বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুর রহমান কিছুটা নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করলেও এর দায় নিজের নয় বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, যাচাই-বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বদলি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছোটখাটো ভুল-বোঝাবুঝি থাকতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতি ইসরাত জাহান ছনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে বদলি সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা অগোচরে হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করা হবে।

অন্যদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা কমিটি নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ করেছে। নীতিমালা অমান্য করে বদলি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটির সঙ্গে কথা বলতে হবে।

এ অবস্থায় বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র প্রকাশ এবং নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, শিক্ষক বদলিতে স্বচ্ছতা ও জ্যেষ্ঠতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে একদিকে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর পাঠদানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।