নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
পুষ্টি, শক্তি ও সুস্বাস্থ্যের অন্যতম সহজলভ্য উৎস ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স (এফভিএমএএস) অনুষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
সকাল ১০টায় অনুষদীয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৩৬শে জুলাই চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফভিএমএএস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তৈমুর ইসলাম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোসা. খাইরুন্নেসা।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ডিমের ইতিহাস, পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং মানুষের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে ডিমের ভূমিকা সচিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষিবিজ্ঞান ও গবেষণার সঙ্গে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জন্য আরও নিরাপদ, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর ডিম এবং মুরগির মাংস উৎপাদনে গবেষকদের মনোযোগী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের গবেষণা ও উদ্ভাবন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের বাস্তবতায় কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, ডিম যেন কেবল বিশেষ কোনো শ্রেণির মানুষের খাদ্য না হয়ে প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থান পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে উৎপাদনব্যবস্থা ও গবেষণার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদুর রহমান এবং প্যাথোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হায়দার। বক্তারা পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পোল্ট্রি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ফ্ল্যাশ পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ডিম কমিশনের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এবং ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখার উদ্যোগে দেশব্যাপী দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

