নড়াইল প্রতিনিধি
বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (১০ অক্টোবর)। ১৯৯৪ সালের এই দিনে তিনি যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। চিরকুমার ও অসাম্প্রদায়িক এই শিল্পীকে নড়াইল শহরের চিত্রা নদীর তীরে কুড়িগ্রাম-মাছিমদিয়া এলাকায় তাঁর নিজ বাড়ির আঙিনায় সমাহিত করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও এস এম সুলতান কমপ্লেক্সের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টায় শিল্পীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, সকাল ৯টায় সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, সাড়ে ৯টায় দোয়া ও মোনাজাত এবং সকাল ১০টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
নড়াইলের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম জানান, শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এস এম সুলতানের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর মৃত্যুর পর সরকারি অর্থায়নে নিজ বাড়িতে নির্মাণ করা হয় এস এম সুলতান কমপ্লেক্স। তাঁর শিল্পকর্মে গ্রামীণ জীবন, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের শক্তিমত্তা, সংগ্রাম এবং জীবনবোধ বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। এ ছাড়া ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ সম্মাননাও পান তিনি।
বাংলাদেশের চিত্রকলায় অনন্য অবদান রাখা এই শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর জীবন, কর্ম ও শিল্পসাধনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন শিল্পানুরাগীরা।

