জয়পুরহাট প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও। পূজার প্রসাদ তৈরি, অতিথি আপ্যায়ন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নারিকেলের ব্যবহার থাকায় এ সময়ে পণ্যটির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে বাড়তি দামের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতাদের পড়তে হচ্ছে বাড়তি চাপে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে নারিকেল। পূজার প্রয়োজন মেটাতে সেগুলো কিনতে আসছেন ক্রেতারা। তবে দাম শুনে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম নারিকেল কিনছেন, কেউ কেউ আবার না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাঝারি আকারের এক জোড়া নারিকেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। বড় আকারের এক জোড়া নারিকেলের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে মানভেদে প্রতি কেজি আখের গুড় বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইউনুস আলী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গুড় ও ঝুনা নারিকেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে চাহিদার সঙ্গে দামও বেড়েছে। আকার ও মানভেদে প্রতি জোড়া নারিকেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী ওসমান গনি বলেন, আড়তে নারিকেলের দাম বেশি হওয়ায় তাঁদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। জয়পুরহাট, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসব নারিকেল আনা হয়। ডাবের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় নারিকেলের দামও কিছুটা বেড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা তুলনামূলক কম হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ক্রেতা সুদের চন্দ্র বলেন, “নারিকেল ছাড়া পূজার কথা ভাবাই যায় না। পূজায় আত্মীয়স্বজন বাড়িতে বেড়াতে আসেন। তাঁদের আপ্যায়নের জন্য মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করতে হয়। এর মধ্যে নারিকেলের নাড়ু অন্যতম। তাই এ সময় চাহিদা ও দাম দুটোই বাড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “আশ্বিন-কার্তিক মাসে সংসারে অভাব থাকে। কিন্তু অভাব যতই হোক, মা দুর্গার পূজায় ফলমূল, মোয়া, নাড়ু ও নারিকেল তো দিতে হয়। দাম বেশি হলেও কিনতে হবে।”
ক্রেতা সুচিত্রা রানী বলেন, “পূজা চলছে। বাড়িতে বাচ্চারা আছে, অতিথি এলে তাঁদেরও আপ্যায়ন করতে হবে। তাই দুটো নারিকেল কিনলাম।”
পূজার আনন্দ ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখতে বাড়তি দাম দিয়েই নারিকেল ও গুড় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। তাঁদের প্রত্যাশা, বাজারে এসব পণ্যের দাম সহনীয় হলে পূজার কেনাকাটায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।

