ফরিদপুর প্রতিনিধি
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশি যুবকদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়োজিত করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের দুই প্রধান সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। একই সঙ্গে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৪৬৩ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১০।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও ফরিদপুরের নগরকান্দায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মানব পাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের মিজানুর রহমান (৫৫) ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মো. আবু তাহের লেন্টু (৫০)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাজন হোসেন (২১) নামে এক যুবককে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠান। গত বছরের ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর রাজনসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে জোরপূর্বক রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি দুই পায়ের কর্মক্ষমতা হারান। চার দিন পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফিরতে সক্ষম হন তিনি।
এসআরবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চক্রটি প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন এবং মাত্র দুজন দেশে ফিরতে পেরেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ক্ষতিপূরণ দাবি করায় রাজনের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলে তাঁর বাবা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলার ভিত্তিতে এসআরবি-১০ ও এসআরবি-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

