কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি দখলে বাধা দেওয়ায় নাছিমা বেগম (৪২) নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও করেছেন নিহতের স্বজনরা। পুলিশ এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত নাছিমা বেগম বাটিকামারা এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে নাসির হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন একই এলাকার মৃত সুপাইয়ের ছেলে মিঠু হোসেন (৪৮) ও সুদে শেখের ছেলে রিপন শেখ (৪৫)। সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাটিকামারা মৌজার ১০৫ নম্বর দাগে প্রায় ২৫ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমিতে নাছিমা বেগম, তাঁর স্বামী ও স্বজনরা প্রায় ৪৩ বছর ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি একই এলাকার মৃত জনির উদ্দিনের তিন ছেলে মোমিন শেখ, মামুন হোসেন ও সেলিম হোসেন জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সোমবার ভোর ৫টার দিকে মোমিন শেখ লোকজন নিয়ে নাছিমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। একপর্যায়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে ছাপড়া ঘর নির্মাণ শুরু করেন তাঁরা। এ সময় নাছিমা বাধা দিলে তাঁকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করা হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বামী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাতে প্রতিপক্ষ বাড়িঘর ভাঙচুর করে জমি দখলের হুমকি দিয়েছিল। পরদিন সকালে জমি দখল করতে এসে তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার ও আসামিদের ফাঁসি দাবি করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীকে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে জমি দখলের ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

