মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। শুধু চলতি বছর নয়, ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে টানা তিন বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এমন ফলাফলে শতভাগ ফেল করার হ্যাটট্রিক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া উপজেলার আড়পাড়া কাজী সিরাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে চলতি বছর দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি। দুটি প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলে এলাকায় অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
গত ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে চারজন এবং আড়পাড়া কাজী সিরাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, অনেক কষ্ট করে বুকভরা আশা নিয়ে সন্তানদের কলেজে পাঠান তাঁরা। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মৃধা বলেন, কলেজ শাখায় নয়জন শিক্ষক যোগদান করলেও তাঁদের মধ্যে দুজন আর আসেন না। মূল সমস্যা হলো, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। তবে স্কুল শাখায় তাঁদের পরীক্ষার ফলাফল ভালো।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ. আউয়াল আকন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ফলাফল জানার পর গত ৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, কলেজ শাখার নয়জন শিক্ষকের মধ্যে দুজন চাকরি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাকি সাতজনও কোনো ক্লাস নেন না।
তিনি আরও বলেন, গত ৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের জবাব পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। কলেজ শাখাটি বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।

