নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনের সন্ধান না পাওয়ার ঘটনায় জিহাদ হোসেন (ওয়ার্ডবয়) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এর আগে বৃহস্পতিবার নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার জিহাদ হোসেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মুসকিপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর পৃথক দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই তাঁর গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ থাকার তথ্য উল্লেখ ছিল। পরে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওই চিকিৎসকের অধীনে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি কন্যাশিশু হস্তান্তর করা হলেও অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
নবজাতকের মা শান্তনা আক্তারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে তাঁকে যমজ সন্তান হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর একটি শিশুকে দেখানো হলে তিনি অপর শিশুর বিষয়ে জানতে চান। এ সময় অস্ত্রোপচারের ক্ষত সেলাই না করে তাঁকে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় এবং ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিশুটির বাবা শান্ত ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রোপচারের পর একটি সন্তান তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তানের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আর্থিক প্রস্তাব দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, রোগী চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন এবং তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। একটি নাকি দুটি সন্তান জন্ম নিয়েছে, সে বিষয়ে চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

