মো.ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুরের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিরামপুর সরকারি কলেজের সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক আলতাফ হোসেনের তৃতীয় সন্তান, ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের সহসভাপতি ও পরিচিত ক্রিকেট খেলোয়াড় মঞ্জুরুল ইসলাম রতন আর নেই। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোরে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহখেলোয়াড় ও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর বিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী আনসার মাঠে ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত ‘বিরামপুর লিজেন্ড কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সিজন-৬’ চলছিল। খেলার একপর্যায়ে ওভারের পাঁচটি বল করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাঠে পড়ে যান রতন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
রতনের আকস্মিক মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একমাত্র সন্তানসহ স্বজনদের কাছে তাঁর এভাবে চলে যাওয়া ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। যিনি প্রতিদিনের মতো ক্রিকেট খেলতে মাঠে গিয়েছিলেন, তাঁর আর জীবিত অবস্থায় বাড়ি ফেরা হলো না।
সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য ছিল তাঁর শেষ বিদায়ের মুহূর্ত। যে বিরামপুর আনসার মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, সেই মাঠেই জানাজা শেষে তাঁকে শেষ বিদায় জানান স্বজন, বন্ধু, সহখেলোয়াড় ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী।
মঞ্জুরুল ইসলাম রতন শুধু একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভিক্টর স্পোর্টিং ক্লাবের সহসভাপতি এবং স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ। তাঁর মৃত্যুতে বিরামপুরের ক্রিকেটাঙ্গনে তৈরি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা।
যে মাঠে একদিন ব্যাট-বলের শব্দে মুখরিত হতো চারপাশ, সেই মাঠেই এবার থেমে গেল তাঁর জীবনের পথচলা। সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। বিরামপুরের ক্রিকেটাঙ্গনে রতন বেঁচে থাকবেন তাঁর খেলা, অবদান ও সহখেলোয়াড়দের ভালোবাসায়।

