শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়ে পর্যটকবাহী একটি ট্রলার থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকার রিয়াজ আহমেদ নামের এক পর্যটক। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সুন্দরবনের দুবলার চরের কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ নভেম্বর পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশন থেকে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জের মিজানুর রহমান পরিচালিত ‘ইকো ট্যুরিজম-২’ নামের কাঠের ট্রলারে ১৯ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে যান। তাঁদের মধ্যে নরসিংদীর ৯ জন, ময়মনসিংহের ৯ জন এবং ঢাকা-গাজীপুরের একজন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরের কাছে পৌঁছানোর আগে ট্রলারটি নতুন জেগে ওঠা একটি চরে আটকে যায়। এ সময় ট্রলারের চালক ও কর্মীরা সেটি ছাড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পর্যটকেরাও ট্রলার থেকে নেমে সহযোগিতা করেন। দীর্ঘ চেষ্টায় ট্রলারটি ছাড়াতে না পেরে সবাই আবার ট্রলারে উঠে আসেন। পরে ট্যুর গাইড পর্যটকদের গণনা করতে গিয়ে একজনকে অনুপস্থিত পান। এরপর ট্রলারের বিভিন্ন কেবিনে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি।
ট্যুর গাইড মো. মিজানুর রহমান বলেন, সবাই ট্রলারে উঠে আসার পর পর্যটক গণনা করে একজনকে কম পাওয়া যায়। পরে ট্রলারের প্রতিটি কেবিনে খোঁজ করা হয়। তাঁকে না পেয়ে বিষয়টি বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডকে জানানো হয়।
পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, একজন পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে তাঁর নাম-ঠিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁকে উদ্ধারে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ড কাজ করছে।
সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম বলেন, সুন্দরবন ভ্রমণ যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও। সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে নিরাপদে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব। বিশেষ করে সাগরসংলগ্ন এলাকায় স্রোতের তীব্রতা অনেক বেশি। এ ধরনের ঘটনায় রিপ কারেন্ট বা উপকূলের কাছাকাছি সৃষ্ট শক্তিশালী উল্টো স্রোত কাউকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে ওই পর্যটক কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা অন্য পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

