বাগেরহাটের চিতলমারীতে ছোট ভাইয়ের কাছে পাওনা টাকার দাবিতে গত তিন দিন ধরে উপজেলা পরিষদের সামনে আমরণ অনশণ করছেন চির কুমারী কবিতা সরকার (৪৫) তিন দিন অনাহারে থাকায় কবিতা এখন ঠিক মতো কথা বলতে পারছেননা সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার দুপুরে এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার অনশন চলছিল। কবিতা উপজেলার সাবোখালী গ্রামের ভরত সরকারের কন্যা।
কবিতার অভিযোগ সে ২৬ বছর গার্মেন্টেস শ্রমিক হিসেবে কাজ করে টাকা জমিয়ে ২০লাখ টাকা ধার দিয়েছে দেনাগ্রস্ত ছোট ভাই সুব্রত সরকারকে।এ টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কবিতার বাবা ছেলের দেনা পরিশোধের জন্য মেয়ে কবিতাকে ১ বিঘা ৮ শতক জমি তার নামে লিখে দেয়ার কথা বলেন। এতে ছেলে সুব্রত সরকারের ও সম্মত্তি ছিল। এর কিছু দিনের মধ্যে কবিতার বাবা ভরত সরকার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
বাবার মৃত্যুর পর সুব্রত সরকার তাকে জমি লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পাওনা টাকার কথাও সে অস্বীকার করে। এ অবস্থায় কবিতা নিরুপায় হয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। গত তিন দিন ধরে সে ভাইয়ের কাছ থেকে এ টাকা আদায়ের জন্য চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সামনে আমরণ অনশন করছেন। এ বিষয়ে কবিতার ভাই সুব্রত সরকার জানান, তার বোন কবিতার সাথে কোন লেনদেন নেই। সে অনশনে বসে যেটা করে করুক এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা বলেন, কবিতার অভিযোগের ভিত্তিতে আমার অফিসে একাধিকবার বসা হয়েছে। তাতে প্রমানিত হয়েছে সুব্রত’র কাছে তার বোন কবিতা টাকা পাবেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল জানান, কবিতা সরকার তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে ভাই সুব্রত সরকারকে ডাকা হয়েছিল। সে দেনার টাকা পরিশোধের জন্য কবিতার নামে জমি লিখে দেওয়ায় কথা দিয়ে ছিল, কিন্তু সুব্রত ওই জমি তাকে না দিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে।

