শাকিল মাহমুদ বাচ্চু, উজিরপুর (বরিশাল)
বর্ষা এলেই উজিরপুর উপজেলার সাতলা এলাকার বিলগুলোতে ফুটে ওঠে শত সহস্র লাল, সাদা ও নীল শাপলা ফুল। বরিশালের সাতলার বিল যেন এ সময় পরিণত হয় এক জীবন্ত নকশিকাঁথায়। পানির উপর ভাসমান শাপলার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেলে হাজারো মানুষ ভিড় জমায় এই বিলে।
সাতলার বিলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ৭ মাসজুড়ে দেখা মেলে কোটি কোটি শাপলার। স্থানীয় গ্রামবাসীরা শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করে। ভোর হতেই নৌকা নিয়ে তারা নেমে পড়েন বিলে, তুলে আনেন সৌন্দর্যভরা শাপলা, যা বাজারে বিক্রি করে চলে শত শত পরিবারের সংসার।
সাতলার শাপলার খ্যাতি এখন শুধু বরিশালেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে এমনকি দেশের বাইরেও। পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে সাতলার বিল অঞ্চল। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২০০ বছর ধরে সাতলার বিলগুলোতে শাপলার উৎপত্তি হচ্ছে, আর বর্তমানে এলাকার প্রায় ৫০ ভাগ মানুষ এই শাপলার চাষ ও বিপণনে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।
কালবিলা এলাকার বাসিন্দা দীপক কুমার বলেন, “আগে শাপলার তেমন চাহিদা ছিল না, পানিতে জন্মে পানিতেই পঁচে যেত। এখন এর কদর বেড়েছে, বিক্রি করে চলছে সংসার।” একই কথা জানালেন হারতা গ্রামের দিনমজুর পরিমল (৪০)। তিনি বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে ৫/৬ শত টাকা আয় হয়, এতে করে সংসার চালাতে পারছি।”
ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সুমন্ত (২২) বলেন, “প্রকৃতির এমন রূপ দেখতে এতদূর ছুটে এসেছি, এখানকার সৌন্দর্য মন ছুঁয়ে গেছে।” বরগুনার আমতলী থেকে আগত রাসেল হাওলাদার (২৮) বলেন, “আমি বহুবার এসেছি, প্রতিবারই নতুন অনুভূতি পাই।”
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, “সাতলা দিনদিন পর্যটন নগরীতে পরিণত হচ্ছে। ৭ জুলাই আমি নিজে শাপলা বিল পরিদর্শন করেছি। বিলের সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শাপলা বিলকে দেশের অন্যতম বিনোদন স্পট হিসেবে উন্নয়ন করা হবে।”
সাতলার শাপলা বিল শুধু একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানই নয়, এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনগণের জীবিকা, পর্যটকদের আনন্দের কেন্দ্র এবং দেশের একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য।

