যশোর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার পাশে কয়লার স্তূপ রেখে পরিবেশ দূষণ অব্যাহত রেখেছে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এতে করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশেপাশের গাছপালাও। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলীপুর এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে স্থানীয় আব্দুর রহিম তার জমি ভাড়া দেন ‘আই আর এস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে খোলা জায়গায় কয়লা স্তূপ করে রাখা এবং বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ এর আশেপাশেই রয়েছে দারুল কোরআন মাদরাসা, একটি মসজিদ ও আবাসিক বসতবাড়ি।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়লার ধুলাবালির কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে স্থানীয় গাছপালাও। পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে এভাবে কয়লা রাখার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই যশোরের জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে গণপিটিশন দাখিল করেছেন তারা।
এ অবস্থায় গত বুধবার সকাল ১১টায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী যশোর-খুলনা মহাসড়কে মানববন্ধন করেন এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল বলেন, “জমির মালিককে কয়লার স্তূপ সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা ব্যবসায়ীকে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতিপত্র সাত দিনের মধ্যে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্দেশনার পরদিনই সেখানে আরও বড় করে কয়লার স্তূপ তৈরি করা হয় এবং নতুন করে একটি সাইনবোর্ড বসানো হয়, যা প্রশাসনিক আদেশকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।
জমির মালিক আব্দুর রহিম বলেন, “ইউএনও যে শর্ত দিয়েছেন, তা কয়লা ব্যবসায়ীকে জানানো হয়েছে।”
যশোর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে কয়লার স্তূপ সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা থাকলে তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

