পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি একেএমএ আউয়ালের স্ত্রীকে জাল সনদ ব্যবহার করে একটি কলেজে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ার মামলায় ওই কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদারকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে জেলা জজ মোঃ মজিবুর রহমান তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবী আহসানুল কবীর বাদল ও মামলার সূত্রে জানা যায়, জাল সনদ দিয়ে ওই কলেজে চাকুরি বাগিয়ে নেওয়া এবং সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি একেএমএ আউয়াল, তার স্ত্রী লায়লা পারভীন ও কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে।
দুদক পিরোজপুরের উপ-সহকারী পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাটের দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মহিলা কলেজে ২০১৩ সালে পাস কোর্স চালু হয়। কলেজটি এমপিওভুক্ত না থাকলেও ২০১৮ সালে সরকারিভাবে এমপিওভুক্ত করা হয়। আসামী লায়লা পারভীন গভর্নিং বডির সভাপতি ও নিজে দাতা সদস্য হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্বেও জাল সনদ ব্যবহার করে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে নিয়োগ পান।
লায়লা পারভীন তার স্বামী একেএমএ আউয়ালের প্রভাব এবং কলেজের অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদের সহযোগিতায় ভূয়া সনদপত্র দিয়ে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর নাজিরপুর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৬ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেন। এই ঘটনায় দুদক মামলা দায়ের করে।
জাল সনদ তৈরি, চাকুরি প্রদান ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে লায়লা পারভীন, তার স্বামী একেএমএ আউয়াল ও অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ মজুমদারকে আসামী করা হয়েছে। অধ্যক্ষ ঠাকুর চাঁদ হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। তবে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

