আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় সহকারী শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় বিএনপি নেতা ইসলাম কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ভোর রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, গত রোববার সকালে সদর উপজেলার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুর রহমানকে মারধর করে বিদ্যালয় থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগে ইসলাম কবিরাজসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়। বাদী হয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক শফিকুর রহমান। মামলায় অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— বল্লী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম আক্তার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি, সদর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম ও আবদুর রইপ।
সাতক্ষীরা থানার ওসি শামিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“মামলার একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”
এদিকে, সোমবার বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার দাবি জানায়। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম. আজারুজ্জামান বলেন,
“বিদ্যালয়কে ঘিরে বিএনপির একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। শিক্ষকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।”
তবে বিএনপি নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি দাবি করেন, শিক্ষক শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। এবারের ঘটনাতেও স্থানীয় জনরোষের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ক্লাস শেষে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এক ছাত্রীকে নিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় শিক্ষক শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরদিন সকালে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

