মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতায় যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে অন্তত ৫০টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত এক মাস ধরে উপজেলার কুলটিয়া, নেহালপুর, দূর্বাডাঙ্গা ও মনোহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে আছে। এ কারণে স্কুলের মাঠ ও ক্লাসরুমে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে বেঞ্চের উপর মাচা বানিয়ে, বাড়ির উঠানে তাবু টানিয়ে কিংবা কাছাকাছি উঁচু জায়গায় অস্থায়ী সেড নির্মাণ করে চলছে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম।
মনোহরপুর ইউনিয়নের বয়ারখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তনুজা মল্লিক বলেন, “শিক্ষার্থীদের বাড়ি এবং স্কুল দুটোই পানিতে ডুবে গেছে। আমরা ক্লাসরুমে বেঞ্চের উপর কাঠের মাচা বানিয়ে কোনরকমে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।”
হাটগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সনজিত মন্ডল জানান, “প্রতিবছর অতিবৃষ্টি আর উত্তরের পানির চাপে বিদ্যালয়টি তলিয়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”
স্কুল কর্মচারী সুমন বৈরাগী জানান, “বিদ্যালয়ে আসার পথে হাটু পানি, মাঠে কোমর পানি। ঝুঁকি জেনেও ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত ক্লাসে আসছে।”
উপজেলার হাটগাছা, কুলটিয়া, লখাইডাঙ্গা, সুজাতপুর, মহিষদিয়া, আলীপুর, কামিনীডাঙ্গা, কুমারঘাটা প্রভৃতি গ্রামের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বিকল্পভাবে পাঠদান চালানো হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম জিল্লুর রশীদ জানান, “কমপক্ষে ২৫টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মাঠ পানিতে তলিয়ে আছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়েছে।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোতালেব জানান, “১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হলেও বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালানো হচ্ছে।”
শিক্ষা কার্যক্রমের উপর এই জলাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা গ্রহণে দীর্ঘমেয়াদী বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহল।

