আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলাজুড়ে ৫৮৭টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ উৎসব। তবে এর মধ্যে ৫৫টি পূজা মন্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: মুকিত হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট, পূজা উদযাপন কমিটি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, মন্দির সমিতি এবং জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক এবং ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় জানানো হয়, সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় এ বছর মোট ৫৮৭টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে:
- সাতক্ষীরা সদর উপজেলা: ১০৬টি (এর মধ্যে পৌরসভায় ১৮টি)
- তালা উপজেলা: ১৯৫টি
- আশাশুনি উপজেলা: ১০৩টি
- শ্যামনগর উপজেলা: ৬৯টি
- কলারোয়া উপজেলা: ৪৪টি
- কালিগঞ্জ উপজেলা: ৪৯টি
- দেবহাটা উপজেলা: ২১টি
সভায় জানানো হয়, জেলার ৫৫টি মন্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে:
- শ্যামনগরে: ২০টি
- আশাশুনিতে: ২৩টি
- কলারোয়ায়: ৬টি
- দেবহাটায়: ৪টি
- কালিগঞ্জে: ২টি
সভায় পূজা উদযাপনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, অগ্নিনির্বাপণ এবং অন্যান্য জরুরি সেবাসমূহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি, নিরাপত্তা জোরদার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, “সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।”
সভায় ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

