কবির হোসেন,আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর)প্রতিনিধি
মাত্র দুদিন আগে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন। তবে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন।
পুড়ে যাওয়া স্বপ্নের পুনর্গঠনে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তারা। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) দুপুরে উপজেলা চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে আর্থিক সহায়তা এবং নতুন করে ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগ মোশারফের পুড়ে যাওয়া ভ্রাম্যমাণ সিঙ্গারা, পুরি ও চপের দোকানটি পুনরায় চালু করতে সাহায্য করবে।
অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে যখন তিনি হতাশায় নিমজ্জিত, তখন উপজেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ তাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) রাসেল ইকবাল এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে বলেন, “মোশারফ হোসেনের এই দুঃসময়ে তার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা গর্বিত। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি নিজের প্রচেষ্টায় পরিবার চালাতেন। তার এই অকস্মাৎ ক্ষতির পর আমরা দ্রুত তার পাশে আসার সিদ্ধান্ত নেই। আশা করি, এই সামান্য সহায়তা তাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।”
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত জানান, “আমরা জানতে পেরেছি অগ্নিকাণ্ডের ফলে মোশারফ তার দোকানের সবকিছু হারিয়েছেন। তার দুর্দশার কথা শুনে আমরা সবাই মর্মাহত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি, যাতে তিনি যত দ্রুত সম্ভব তার ব্যবসা আবার শুরু করতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং এরপর প্রশাসনের সহায়তা পেয়ে মোশারফ হোসেন তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আগুন যখন আমার দোকানটি পুড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল আমার জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, সেই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ইউএন স্যার এবং উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা স্যারসহ উপজেলা প্রশাসন যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছি। এই সহায়তা না পেলে হয়তো আর কোনোদিনই ব্যবসা শুরু করতে পারতাম না। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, মোশারফের ভ্রাম্যমাণ দোকানটি ছিল তার পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ কেবল তাকে আর্থিক সহায়তাই দেয়নি, বরং একজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মনে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।

