জাবেদ হোসাইন মামুন, ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে মোহতাসেম বিল্লাহ চৌধুরী সবুজ নামে এক জামায়াত নেতার ওষুধ বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের রহমানিয়া মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহতাসেম বিল্লাহ চৌধুরী সবুজ ওই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ও পৌর কাউন্সিলর প্রার্থী। দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি এলাকার মানুষের মাঝে ওষুধ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও মোটরসাইকেলে ওষুধ নিয়ে বের হন তিনি। এ সময় স্থানীয় যুবদল নেতা নুর আলম জিকো, মো. মোস্তফা, আবু সুফিয়ান ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রফিক ওয়াদুদের নেতৃত্বে একদল কর্মী তার মোটরসাইকেল থামিয়ে দেন। পরে সীটের নিচ থেকে সরকারি ওষুধ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পলের কয়েক প্যাকেট ওষুধ উদ্ধার করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
ঘটনাস্থলে বিপুল জনসমাগম হলে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি জানান, “সবুজ নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।”
পরে ভিডিওটি ভাইরাল হলে রাতে নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত নেতা সবুজ। তিনি দাবি করেন, “আমার পরিবারের পাঁচজন সদস্য ডাক্তার। তাদের কাছ থেকে ফিজিশিয়ান স্যাম্পলের ওষুধ নিয়ে এবং দোকান থেকে কিনে গরিবদের মাঝে বিতরণ করি। কিন্তু বিএনপির কিছু কর্মী ভুল বুঝে আমাকে আটক করে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে, এতে আমার পরিবার ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।”
এ ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. বায়েজীদ আকন বলেন, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। তবে এ নিয়ে আলোচনা চলছেই।
সোনাগাজী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন জানান, “জামায়াত নেতা সবুজ কিভাবে সরকারি ওষুধ সংগ্রহ করে বিতরণ করলেন, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি ওষুধ বিলির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন এবং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছেন।”

