রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর খুলনার তেরখাদা উপজেলার তেরখাদা সদর থেকে নাচুনিয়া পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কারকাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। স্থানীয় মানুষ যখন সড়কের দুরবস্থায় অতিষ্ঠ, তখন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বদলে দিল পরিস্থিতি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল নবধারায় প্রতিবেদন প্রকাশ করে—‘তেরখাদা-নাচুনিয়া সড়ক বেহাল, কাজ শুরু হয়েও থেমে আছে’ শিরোনামে। এরপরই ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে।
খবরে তোলপাড় হওয়ার চার দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুরু করে সড়কটির সংস্কারকাজ। সরানো হয় পুরোনো কাটা খোয়া, চলছে বেস স্ট্রাকচার শক্ত করার কাজ। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুণগত মান ঠিক রেখে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করা হবে।
স্থানীয় ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা মিল্টন হোসেন মুন্সী বলেন, “দীর্ঘদিন রাস্তার কোনো অগ্রগতি ছিল না। তাই কাজের শুরুতেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি মজবুত বেস তৈরিতে। এরপর ধাপে ধাপে কার্পেটিংয়ের কাজ হবে। আমরা মানুষের কষ্ট লাঘবেই কাজ করছি, গুণগত মানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
উপজেলা প্রকৌশলী ভাস্কর মৃধা জানান, “এলজিইডির নিয়ম অনুসারে কাজ হচ্ছে। আমরা নিয়মিতভাবে তদারকি করছি। আশা করছি সময়মতো কাজ শেষ হবে।”
দীর্ঘদিন সড়কটি অবহেলায় পড়ে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও দিনমজুররা। স্কুলছাত্র জহির উদ্দিন জানায়, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে গিয়ে কাদা আর গর্তে পড়ে যেতাম। জামাকাপড় নষ্ট হতো, ব্যথাও পেয়েছি অনেকবার। এখন কাজ শুরু হওয়ায় ভালো লাগছে।”
ভ্যানচালক জাহিদ বলেন, “গর্তে চাকা পড়ে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দিতে হতো। এতে সময় যেমন নষ্ট হতো, তেমনি আয়-রোজগারেও ব্যাঘাত ঘটত। এখন মনে হচ্ছে স্বস্তি ফিরবে।”
নাচুনিয়ার বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস বলেন, “অনেকদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছি। কাজের কোনো গতি ছিল না। এবার সংবাদ প্রকাশের পর কাজ শুরু হয়েছে দেখে মনে হচ্ছে কিছু একটা হচ্ছে। তবে ভয়ও আছে, আবার থেমে যাবে কিনা!”
সড়কটির বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়েছিল পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায়। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কৃষিকাজেও স্থবিরতা নেমে এসেছিল। রাস্তা সচল হলে এই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
তারা বলছেন, এই সড়ক কেবল চলাচলের নয়—এটি তেরখাদা অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অন্যতম প্রধান রক্তধারা। নবধারার সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো প্রশাসনের টনক নড়ত না। তারা সংবাদমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এখন শুধু একটাই চাওয়া—কাজ যেন বন্ধ না হয়, এবং সঠিকভাবে শেষ হয়।

